জুমুআর দিনের বিস্তারিত আমল

Gombuj's photo


জুমুআ 

হযরত আদম ( আ ) ও হযরত হাওয়া ( আ ) কে এই দিনে জান্নাতে একত্র করা হয়েছিলো বলেই মুসলিম উম্মাহরা এই দিনটিকে সাপ্তাহিক ঈদ হিসেবে পালন করে থাকে। ইবাদাতের উদ্দেশ্যে মুসলমানরা মসজিদে একত্র হয় বলে দিনটিকে ইয়াওমুল জুমুআও বলা হয়।

জুমুআর দিনের আমল

জুমুআর দিনের আমল নিয়ে আমাদের অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি কাজ করে। যার কারণে আজ আমি সহিহ বুখারি শরীফ থেকে জুমুআর দিনের আমল সম্পর্কে নবী কারিম ( স ) এর দেখানো আমল বর্ণনা করবো।

গোসল করা

জুমুআর দিন প্রত্যেক বালেগের গোসল করা ওয়াজিব। এ সম্পর্কে হাদিস শরীফে উল্লেখ আছে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী ( রা ) থেকে বর্ণিত। রাসূল ( সা ) বলেছেন জুমুআর দিন প্রত্যেক বালেগের গোসল করা ওয়াজিব। ( বুখারী শরীফ ঃ ৮২৮ )

সুগন্ধি ব্যবহার

জুমুআর দিনে সুগন্ধি ব্যবহার সম্পর্কে হাদিস শরীফে বলা আছে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী ( রা ) এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, রাসূল ( সা ) বলেছেন, জুমুআর দিন প্রত্যেক বালেগ ব্যক্তির গোসল, মেসওয়াক এবং পাওয়া গেলে সুগন্ধি ব্যবহার করা ওয়াজিব। আমর ইবনে সুলাইম বলেন, গোসল সম্পর্কে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তা ওয়াজিব। তবে মেসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার ওয়াজিব কি না তা আল্লাহই ভালো জানেন; কিন্তু হাদিসে এরূপই আছে। ( বুখারী শরীফ ঃ ৮২৯ )

তেল ব্যবহার করা

হযরত সালমান ফারসী ( রা ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম ( সা ) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন গোসল করে ও সম্ভবত পবিত্রতা অর্জন করে এবং নিজের তেল হতে তেল ব্যবহার করে, অথবা নিজ গৃহের সুগন্ধি হতে সুগন্ধি ব্যবহার করে। তারপর নামাজের জন্য বের হয় এবং কাতারে উপবিষ্ট দুজন ব্যক্তির মধ্যে ফাঁকা না করে। অতঃপর তার তাকদীর অনুযায়ী নামাজ আদায় করে। আর ইমামের খুৎবাহ দেওয়ার সময় নীরব থাকে। তার সে জুমুআ হতে পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত সকল গুনাহ মার্জনা করা হয়। ( বুখারী শরীফ ঃ ৮৩২ )

উত্তম পোশাক পরিধান করা

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ( রা ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব ( রা ) মসজিদে নববীর দরজার নিকট একজোড়া রেশমী পোশাক বিক্রি হতে দেখে রাসূল ( সা ) কে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কতোই না ভালো হতো যদি তা আপনি ক্রয় করতেন এবং জুমুআর দিন ও প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতের সময় পরিধান করতেন। রাসূল ( সা ) বললেন ওটা কেবল সে ব্যক্তিই পরিধান করে যার পরকালে কোন অংশ নেই। এরপর রাসূল ( সা ) এর নিকট এ ধরণের কয়েক জোড়া পোশাক আসল এবং এর একটি তিনি ওমরকে দিলেন। ওমর ( রা ) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আমাকে তা পরতে দিলেন অথচ আপনি রেশমী পোশাক সম্বন্ধে বলেছিলেন, এটা পরিধানকারীদের জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। তখন রাসূল ( সা ) বললেন, আমি তোমাকে তা নিজের জন্য পরতে দেই নি। ওমর ( রা ) তার মক্কার জনৈক মুশরিক ভ্রাতাকে তা দান করলেন। ( বুখারী শরীফ ঃ ৮৩৫ )

মেসওয়াক করা

হযরত আবু হুরাইয়া ( রা ) থেকে বর্ণিত। রাসূল ( সা ) বলেছেন, আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কঠিন মনে না করতাম তবে প্রত্যেক নামাজের ওয়াক্তেই মেসওয়াকের হুকুম দিতাম। ( বুখারী শরীফ ঃ ৮৩৬ )

এরকম আরো আমল রয়েছে
  • আগেবাগে মসজিদে যাওয়া
  • সূরা কাহফ তেলাওয়াত করা
  • মসজিদে গিয়ে চার রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়া
  • ইমামের কাছাকাছি বসা
  • মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা। খুতবার সময় কথা না বলা
  • দুই খুতবার মাঝের সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা
  • বেশি বেশি দুরূদ পড়া ইত্যাদি।
এরকম আরো অনেক আমল আছে যা হয়তো আমার জানা নেই।
সুতরাং, আমরা সকলেই চেষ্টা করব যাতে জুমুআর দিনটিকে খুব সম্মানের সাথে আদায় করতে পারি। পরিপাটি হয়ে আল্লাহ তায়ালার সামনে দাড়ানোর চেষ্টা করব। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উক্ত কথাগুলোর উপর আমল করার তৌফিক দান করুক। আমিন।

Post a Comment

0 Comments