হিবাকুশা! ভয়ংকর ইতিহাস বহনকারী জাতি।

HIBAKUSHA


পৃথিবীতে অধিকাংশ মানুষের কাছেই তার জন্মের ব্যাপারে একটি রহস্য থেকেই যায়। কেনো পৃথিবীতে আসলাম! কেনোই বা জীবন নামক একটি তরীতে চড়ে এতোটা পথ পাড়ি দিতে হয়! কেনোই বা প্রতি পদে পদে অজানা এক ভবিষ্যত হাতছানি দিচ্ছে! এরকম হাজারো প্রশ্ন অধিকাংশ মানুষকেই কুড়ে কুড়ে খায়। কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ এই জীবনেই যখন আরো কিছু অভিশাপ নেমে আসে তখন খেই হারিয়ে ফেলা ছাড়া আর কী করার থাকে! আজ এমন একটি জাতিকে নিয়েই কথা বলবো যারা উল্লিখিত প্রশ্নের সমাধান পেতে না পেতেই আরো কিছু সমীকরণের সম্মুখীন হয়েছে। 

হিবাকুশা!

হিবাকুশা হচ্ছে একটি খাঁটি জাপানি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে বিস্ফোরণে আক্রান্ত মানুষজন। চোখের জলের সাথে ব্যথার সংমিশ্রণই যাদের একমাত্র সম্বল। মার্কিন বর্বরতার এক ভয়াবহ ইতিহাস বহন করছে এই হিবাকুশারা। কারা এই হিবাকুশা? ' দ্য অ্যাটমিক বোম্ব সারভাইভারস রিলিফ ' এর নির্ধারিত সংজ্ঞা অনুযায়ী যারা পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্ফোরণস্থলের দুই কিলোমিটারের মধ্যে ছিলেন। যারা বিস্ফোরণস্থলের সামান্য কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে ছিলেন। যারা বিস্ফোরণ নিঃসৃত তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত এবং এই তিন অবস্থার মধ্যে থাকা গর্ভবতী মহিলারা। জাপানের আইন অনুযায়ী এরাই হিবাকুশা। মার্চ, ২০০৫ সাল পর্যন্ত এদের সংখ্যা ছিলো ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৮ জন। এদের মধ্যে অধিকাংশই জাপানের। কোরিয়া এবং তার আশেপাশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজার হাজার।

জাপান সরকারের তথ্যমতে হিবাকুশারা পেয়ে থাকেন সরকারি সহয়তা। প্রতি মাসেই তাদের আর্থিক সহায়তা করা হয়। প্রতিবছর বিস্ফোরণ বার্ষিকীতে স্মরণ করা হয় নিহতদের। প্রতিবছর হিরোশিমা নাগাসাকির বুকে নাম লেখা হয় বিগত বছরের নিহত হওয়া হিবাকুশাদের। আগস্ট, ২০০৫ এ নাগাসাকিতে নিহত হিবাকুশাদের সংখ্যা ছিলো ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৩৯ জন এবং হিরোশিমায় ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৩৭ জন।

হিবাকুশাদের মুখে এভাবেই উঠে আসে মার্কিনিদের নৃশংসতার কথা। হিবাকুশাদের এই জীবন যন্ত্রণা আজ মার্কিনিদের প্রতি ঘৃণা এবং ক্ষোভই বাড়ায়। হিবাকুশা নামক এই উপাধি আজ প্রত্যেক হিবাকুশার জীবনতরীর রহস্য উদঘাটনের অন্তরায়।

পরিশেষে বলতে চাই আর নয় যুদ্ধ, আর নয় বিগ্রহ। ভালোবাসা দিয়েই যাতে পৃথিবীকে জয় করা যায়। প্রত্যেকটা জীবনকে পৃথিবীর সব মানুষকে মিলেই মূল্যায়ন করতে হবে। আমাদের যাতে আর এই হিবাকুশা না দেখতে হয়। এ কারণেই আমাদের সকলের যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। 

Post a Comment

0 Comments