রহস্যে ভরা স্থান কামরূপ কামাখ্যা

kamarupa kamakhya mondir
কামরূপ কামাখ্যা মন্দির

kamarupa kamakhya mondir

হাজার বছরের রহস্যময় স্থান কামরূপ কামাখ্যা

কামরূপ কামাখ্যার রহস্যেভরা আখ্যানের কথা শুনেননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এক সময় এই জায়গায় গেলে কেউ ফিরে আসত না। হাজার বছরের রহস্যময় স্থান কামরূপ কামাখ্যা। এখনো যাদুবিদ্যা সাধনার জন্য বেছে নেয়া হয় কামাখ্যা মন্দিরকেই। কামরূপ কামাখ্যার আশপাশের অরণ্য আর নির্জন পথে নাকি ঘুরে বেড়ায় ভালো-মন্দ আত্মারা। ছোট্ট দুটি শব্দ “ কামরূপ কামাখ্যা “ । আর এ দুটি শব্দের মধ্যেই লুকানো তাবৎ রহস্য, রোমাঞ্চ আর গল্পকথা। এ উপমহাদেশ তো বটেই সমগ্র বিশ্বে কামরূপ কামাখ্যার আশ্চর্যে ভরা আখ্যানের আলাদা কদর রয়েছে। কামরূপ কামাখ্যাকে বলা হয় জাদুটোনা , তন্ত্র-মন্ত্রের দেশ।

ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি শহরের পশ্চিমাংশে নীলাচল পর্বতে অবস্থিত এ কামরূপ কামাখ্যা। এখানে রয়েছে সারি সারি পর্বতমালা। এর ঠিক পাশেই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্র মা কামাখ্যার মন্দির। এ মন্দির চত্বরে ১০টি মহাবিদ্যার মন্দিরও আছে। এ মন্দিরগুলোতে ভুবনেশ্বরী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ত্রিপুরা সুন্দরী, তারা, কালী, ভৈরবী, ধূমাবতী, মাতঙ্গী ও কমলাদেবীর মন্দিরও রয়েছে। এর মধ্যে ত্রিপুরা সুন্দরী, মাতঙ্গী ও কমলা প্রধান মন্দিরে পূজিত হন। তন্ত্রসাধকদের কাছে এ মন্দির বিশেষ তীর্থস্থান। এছাড়া পুণ্যার্থীদের কাছেও এ মন্দিরের গুরুত্ব অনেক। এ মন্দিরের মোট চারটি কক্ষ আছে। একটি গর্ভগৃহ ও তিনটি মণ্ডপ। এগুলোর স্থানীয় নাম - চলন্ত, পঞ্চরত্ন ও নাটমন্দির। গর্ভগৃহটি পঞ্চরথ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত। অন্যগুলোর স্থাপত্য তেজপুরের সূর্যমন্দিরের সমতুল্য। এগুলোতে খাজুরাহো বা অন্যান্য মধ্যভারতীয় মন্দিরের আদলে নির্মিত খোদাইচিত্রও রয়েছে। আর মন্দিরের চূড়াগুলো উলটো মৌচাকের মতো। গর্ভগৃহটি মূলত ভূগর্ভস্থ একটি গুহা। এখানে কোনো মূর্তি নেই। শুধু একটি পাথরের সরু গর্ত আছে। এ গর্ভগৃহটি ছোট ও অন্ধকারাচ্ছন্ন। সরু খাড়া সিঁড়ি পেরিয়ে এখানে পৌঁছাতে হয়।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বর্তমানে এ মন্দির ভবনটি অহোম রাজাদের রাজত্বকালে নির্মিত। এর মধ্যে প্রাচীন কোচ স্থাপত্যটি সযত্নে রক্ষিত আছে। খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় সহস্রাব্দের মাঝামাঝি সময় মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে, ১৫৬৫ সাল নাগাদ কোচ রাজা চিলরায় মধ্যযুগীয় মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী অনুসারে মন্দিরটি পুনরায় সংস্কার করে দেন। এখন যে মৌচাক আকারের চূড়া দেখা যায় তা নিম্ন আসামের মন্দির স্থাপত্যের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

Post a Comment

0 Comments